শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে টিভ্যাস
জাতীয় বিনিয়োগ নীতিমালা বাস্তাবায়নে সংশোধন হতে যাচ্ছে টিভ্যাস নিবন্ধন গাইডলাইন। সংশোধিত গাইডলাইন অনুযায়ী,ই-কমার্সের মতো শতভাগ বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে টেলিকম ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসেও।
দেশে মোবাইলফোন ভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের সেবা তথা টিভ্যাস অনুমোদন আছে ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানের। এসব প্রতিষ্ঠানের টিভ্যাস প্রতিষ্ঠান স্টেলার ডিজিটাল লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বৈদেশিক মালিকানা ৭০ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করতে এবং দেশি মালিকানা ১০ শতাংশ করার অনুমোদন চেয়ে বিটিআরসিতে আবেদন করলে কমিশন ভিন্ন পন্থা অবলম্বনে উদ্যোগী হয়।
কমিশনের ২৫১তম বৈঠকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন কিছু শর্তারোপ করে বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, বিনিয়োগ বাড়াতে কোনও প্রতিষ্ঠান খ্যাতনামা কিনা সেটার মাপকাঠি নির্ধারণে পারফরমেন্স কেমন তা বিবেচনা করা যেতে পারে। টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনার অন্তত পাঁচ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় আনা যেতে পারে। এ ছাড়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে কী পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী সে সংক্রান্ত তথ্যও আমলে নেওয়া যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগে বিশেষ করে শুধু বিদেশি অংশ থেকে নগদ প্রবাহ কেমন হবে সেটাও পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগোযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, টিভ্যাস কোম্পানিগুলো চাইলে শতভাগ বিনিয়োগও নিতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগে এখন ‘লিমিট’ নেই। বিনিয়োগ সুবিধায় এর উল্লেখ রয়েছে। জাতীয় নীতিমালা ভঙ্গের কোনো এখতিয়ার সংস্থাগুলোর নেই।
বিদ্যমান টিভ্যাস গাইডলাইন অনুসারে ৩০ শতাংশ নিজেদের মালিকানায় রেখে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ নিতে পারে। তবে জাতীয় নীতির সঙ্গে সংস্থাগুলো সমন্বয় করলে টিভ্যাস প্রতিষ্ঠানের
দেশীয় টিভ্যাস খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অনুমোদন পেলে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসবে। তখন তাদের একচেটিয়া দাপটে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো টিকতে পারবে না। আর শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ এলে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তো অস্তিত্বই হারাবে।
তবে তাদের এই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে টেলিকম মন্ত্রী বলেছেন, যদি তাদের বিশেষ কোনো সুবিধা দরকার হয় তবে সরকার সেটি বিবেচনা করবে।
অবশ্য খাত সংশ্লিষ্টার বলছেন, গাইডলাইন সংশোধন হলে দেশে নেটফ্লিক্স, হইচই, জি-ফাইভ, আমাজন প্রাইম সরাসরি অফিস খুলে ব্যবসা শুরু করবে। বিনিয়োগ নীতিমালার কারণে তাদের এ দেশীয় কোনও উদ্যোক্তার প্রয়োজন হবে না। এমনটা হলে দেশীয় ছোট উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।